শিরোনাম
বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত এড়াতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে প্রশাসনের আবেদন বহুল প্রত্যাশিত কারমাইকেল কলেজের মূল ফটক নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবার পেল বিআরটিএ’র ১ কোটি ৩ লাখ টাকা জমি বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রংপুরে ১’শ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার …. রংপুরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী রংপুর নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করতে ভাঙা সড়ক সংস্কার কাজ শুরু রংপুরে সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ..রংপুরে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল রংপুরে বস্তাবন্দী অবস্থায় নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

কালীগন্জে তরুণ সমাজ অনলাইন গেম বাজি খেলায় আসক্ত,উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

কায়সারুল আলম সোহাগ,কালীগন্জ প্রতিনিধিঃ / ২১৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫

 

প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে নেই লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মানুষজন । তথ্য-প্রযুক্তি ও স্মার্ট ফোনের ব্যবহার ফ্রি-ফায়ার, টেনবার্ডটি, পাবজি,  লুডু, ক্যারাম বোর্ড, ক্যাসিনো, জেডউইন, বাবু ৮৮, জেডবার্ড, মারবেল, বাজি ৯৯৯ সহ বহু অনলাইন গেম এবং বাজি খেলাতে আসক্ত হয়ে পড়েছে এ উপজেলার আগামী নেটিজেনরা। শহর কিংবা গ্রাম সবার হাতেই রয়েছে স্মার্ট ফোন । আর এই স্মার্ট ফোনের বদৌলতে খুব সহজেই অনলাইনে বাজি খেলায় জড়িয়ে পড়েছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ।

সচেতনমহল মনে করছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফলের চেয়ে কুফলই বেশি দেখা দিয়েছে শহর ও গ্রামাঞ্চলে। প্রযুক্তির নেশায় বিশেষ করে মোবাইলের মাধ্যমে এ উপজেলার উঠতি বয়সী তরুণ তরুণীরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে । এক সময় গ্রাম বা শহরে সন্ধ্যা হলে ছেলে-মেয়েরা পড়ার টেবিলে বসত আর এখন সে দৃশ্য দেখা যায় না । প্রযুক্তির বিকাশের ফলে সবার হাতে হাতে এখন মোবাইল। সন্ধ্যা হলেই মোবাইল হাতে নদীর ধারে বা রাস্তার পাশে, ব্রিজের ওপরে অথবা কারও বাড়িতে এবং কারও দোকানের পাশে, এমনকি যেখানে ওয়াইফাই সংযোগ রয়েছে সেখানেও চলে যায়। বসে বসে চলে মোবাইলে গেম খেলা বা বাজির নামে জুয়া খেলা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,বিভাগ ও জেলার মতো এ উপজেলাতেও মোবাইলে জুয়ার শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে । জেলা সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে উপজেলা পর্যায়ে কমিশন ভিত্তিক এজেন্ট দেয়া হয়। উপজেলা এজেন্টের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের হাট বাজার গুলোয় কমিশন ভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়। এসব এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করে নগদ, বিকাশে টাকা জমা দিয়ে অনলাইন গেমিং এবং অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে । এসব এজেন্টদের মাধ্যমে জুয়ায় আসক্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার পরিবার, অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আগামীর প্রজন্ম । পড়াশোনা, কাজকর্ম বাদ দিয়ে সব সময় উঠতি বয়সের কিশোররা পড়াশোনা বিমূখ হবার পাশাপাশি বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়।

সম্প্রতি সময়ে প্রশাসন নামমাত্র কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনলেও ডিলাররা রয়েছে আজও অধরায়।

এক সপ্তাহ অনুসন্ধানে কালীগন্জ উপজেলা ঘুরে জানাগেছে, এজেন্ট ও ডিলারের কেউ কেউ দিয়েছেন বিকাশের দোকান আবার কেউ দিয়েছেন মুদি দোকান। নামমাত্র ব্যবসার আড়ালে চলছে তাদের জুয়া খেলার সিন্ডিকেট।

একজন চিকিৎসকও নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দেয়ার আড়ালে জুয়ার ডিলার হিসেবে কাজ করছেন বলে বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে।

এই উপজেলার অনেক ছাত্র, শিক্ষক,ব্যবসায়ী,হোটেল কর্মচারী এমনকি অনেক বেকারও এই নেশায় আসক্ত।

সন্ধা হলে উপজেলার বিভিন্ন অলিগলিতে এসব খেলা চোখে পড়লেও ইদানীং সেনাবাহিনীর তৎপরতায় গোপনে চলছে জুয়াবাজি খেলাগুলো।

অভিভাবকরা বলছেন, অনলাইন ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন বাজি ধরা অ্যাপস এ বাজি খেলে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ও অবিভাবকরা আইন শঙ্খলা বাহিনী অভিযানের আহবান জানিয়ে বলেন, প্রশাসন এই খেলাগুলোর বিষয়ে একটু আন্তরিক হলে বেঁচে যেতো হাজার হাজার পরিবার। ফিরে পেতাম সন্তানদের ভবিষ্যৎ।

সচেতন মহল মনে করছেন, জুয়াবাজি খেলাগুলো বন্ধ হলে বেঁচে যেতো হাজার হাজার যুবকের ভবিষ্যৎ শান্তি পেতো পরিবারগুলি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যুবক বলেন, এই বাজি খেলতে গিয়ে আমার লেখাপড়া শেষ। তারা জানায়, সার্ভার বন্ধ থাকলেও ভিপিএন এর মাধ্যমে এসব গেম ও বাজি খেলা যায়। এতে কোন কোন দিন লাভ হয় তাছাড়া বেশিভাগ সময় তাদের লস হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ