শিরোনাম
রংপুরে নিখোঁজের একদিন পর শিশু সানজিদার লাশ উদ্ধার জমি নিয়ে বিরোধে হামলায় নারীসহ গুরুতর আহত ৫ রংপুরে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে রাস্তায় আলু ফেলে চাষীদের বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ রংপুরে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু হোটেল কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে মালিক মিঠাপুকুরে মিশুক ছিনতাইকারী নারী আটক ব্র্যাক সীডের উদ্যোগে টেকসই ও নিরাপদ কৃষি কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইন্টার্ণদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবীতে রংপুরে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন রমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন

সেতু আছে, সড়ক নেই: বাঁশের মইয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ২০ হাজার মানুষ

মোঃ সুলতান মারজান (হৃদয়), মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি / ২১১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের রামনাথেরপাড়া এলাকায় সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক (এপ্রোচ রোড) না থাকায় বিপাকে পড়েছেন আশপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বাঁশের মই লাগিয়ে সেতুর সাথে অস্থায়ী সংযোগ তৈরি করেছেন। প্রতিদিন শতশত মানুষ, শিক্ষার্থী, এমনকি রোগীও ঝুঁকিপূর্ণ এই মই বেয়ে চলাচল করছেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স মুনতাহা কন্সট্রাকশন। প্রায় এক বছর আগে মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বড় হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সদুরপাড়া হয়ে একটি হেরিংবন সড়ক রামনাথের পাড়ার সাথে যুক্ত হয়েছে। ওই সড়কের মাত্র ১০০ মিটার দূরেই সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো তা ব্যবহারের অনুপযোগী। দুই পাশে বাঁশের মই বসিয়ে ওঠানামার ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয়রা।

ফলে নানকর, ফতেপুর, রামনাথেরপাড়া, সদুরপাড়া ও কাঠালী গ্রামের প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষকে প্রতিদিন এভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের মই বেয়ে ওঠানামা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন কৃষকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা নিতাই চন্দ্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১০-১১ মাস আগে ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার রাস্তার কাজ করেনি। এখন এই ব্রিজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি।”

দলিল লেখক ধনেশ্বর রায় বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না ঠিকমতো। বৃষ্টির সময় মই একেবারেই পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন আমরা নিজের খরচে সাকো বানাই। ভারি জিনিসপত্র তো নেওয়া যায় না। সরকার ব্রিজ করেছে, কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো কাজে আসছে না।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থী ওই সেতু দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। ইতিমধ্যে কয়েকজন মই বেয়ে ওঠার সময় পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষায় মই পিচ্ছিল হয়ে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক শিক্ষার্থী তাই বাধ্য হয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুনতাহা কন্সট্রাকশনের আব্দুর রহিম বলেন, “ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হবে। ব্রিজের পাশে পানি থাকায় এপ্রোচ রোডের কাজ করা সম্ভব হয়নি।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান সরকার জানান, “সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। আমরা কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তাগাদা দিচ্ছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।”

মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অধীনে ব্রিজ ও কালভার্টের কাজগুলো পিআইও দেখে। কাজ বুঝে নিয়ে ঠিকাদারকে বিল দিবেন। আমাদের দপ্তরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”

নবাগত মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুলতামিস বিল্লাহ বলেন, “আজই আমি দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী ও পিআইওর সাথে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ