রংপুরের তারাগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ফিরেছে জয় দাস (১৪)। গত রোববার থেকে সে ক্লাস করছে। চুরির অপবাদে গণপিটুনিতে বাবা রূপলাল দাসের মৃত্যুর পর নবম শ্রেণির এই ছাত্র স্থানীয় বাজারে মুচির কাজ শুরু করে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ হলে অনেকেই পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়। এ সহায়তা নিয়েই জয় আবার স্বপ্ন দেখছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) একটি গণমাধ্যমে জয় দাস বলে, আমি নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছি। শিক্ষক-সহপাঠী সবাই উৎসাহ দিচ্ছে, সাহায্য করছে। কিন্তু বাবাকে হারানোর কষ্ট ভুলতে পারছি না। পড়ালেখা শেষে আমি আইনজীবী হতে চাই।
জয়ের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু মুসা বলেন, জয় মেধাবী ছাত্র। বাবাকে হারানোর পর সে জুতা সেলাইয়ের কাজ করায় কষ্ট পেয়েছি। রোববার জয়কে বিদ্যালয়ে দেখে মনটা ভরে গেছে। তাকে মানসিকসহ সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছি। সে পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হোক, এটাই চাই।
উল্লেখ্য যে, গত ৯ আগস্ট রাতে ভ্যানে বাড়ি ফেরার পথে তারাগঞ্জের বুড়িরহাট বটতলায় গণপিটুনিতে নিহত হন রুপলাল দাস ও তার ভাগ্নিজামাই প্রদীপ লাল দাস। ভ্যানচোর সন্দেহে তাদের হত্যা করা হয়। পরদিন রুপলালের স্ত্রী অজ্ঞাত ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, বাকিরা পলাতক।
তারাগঞ্জ বাজারের ফুটপাতে রুপলাল মুচির কাজ করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে একই পেশা বেছে নেয় একমাত্র ছেলে জয়। দাদি, মা ও দুই বোনকে নিয়ে তাঁর সংসার।
মা ভারতী রানী বলেন, আমার স্বামী ফুটপাতে জুতা সেলাই করলেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন। ছেলেটা আবার স্কুলে ফিরেছে– এটাই আমার কাছে সবচেয়ে স্বস্তির।
বড় বোন নুপুর দাস এইচএসসি পাস করেছেন। ছোট বোন রুপা দাস ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া। নুপুর দাস বলেন, বাবা জয়কে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। যেদিন সে বাবার পেশায় যোগ দিল, খুব কেঁদেছিলাম। কিন্তু ওকে তো ফেরানোর পথ ছিল না আমাদের। অনেকের সহায়তায় আমরা স্বস্তি পাচ্ছি। জয়কে নিয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ হলে সবার সহযোগিতা স্বার্থক হবে।
জয় জানায়, উপজেলা প্রশাসন এক লাখ টাকা দিয়েছে। বিএনপিসহ অনেকেই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে পাশে দাঁড়িয়েছেন। সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, জয় বিদ্যালয়ে যাচ্ছে জেনে ভালো লাগছে। তার আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন পূরণে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।