শিরোনাম
দেশের বিরোধী দল স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে …. রংপুরে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত এড়াতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে প্রশাসনের আবেদন বহুল প্রত্যাশিত কারমাইকেল কলেজের মূল ফটক নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবার পেল বিআরটিএ’র ১ কোটি ৩ লাখ টাকা জমি বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রংপুরে ১’শ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার …. রংপুরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী রংপুর নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করতে ভাঙা সড়ক সংস্কার কাজ শুরু রংপুরে সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ..রংপুরে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

গণ-পিটুনিতে নিহত রুপলালের ছেলে জয় দাস ফিরেছে স্কুলে, হতে চায় আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর / ২৩৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

রংপুরের তারাগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ফিরেছে জয় দাস (১৪)। গত রোববার থেকে সে ক্লাস করছে। চুরির অপবাদে গণপিটুনিতে বাবা রূপলাল দাসের মৃত্যুর পর নবম শ্রেণির এই ছাত্র স্থানীয় বাজারে মুচির কাজ শুরু করে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ হলে অনেকেই পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়। এ সহায়তা নিয়েই জয় আবার স্বপ্ন দেখছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) একটি গণমাধ্যমে জয় দাস বলে, আমি নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছি। শিক্ষক-সহপাঠী সবাই উৎসাহ দিচ্ছে, সাহায্য করছে। কিন্তু বাবাকে হারানোর কষ্ট ভুলতে পারছি না। পড়ালেখা শেষে আমি আইনজীবী হতে চাই।

জয়ের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু মুসা বলেন, জয় মেধাবী ছাত্র। বাবাকে হারানোর পর সে জুতা সেলাইয়ের কাজ করায় কষ্ট পেয়েছি। রোববার জয়কে বিদ্যালয়ে দেখে মনটা ভরে গেছে। তাকে মানসিকসহ সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছি। সে পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হোক, এটাই চাই।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ আগস্ট রাতে ভ্যানে বাড়ি ফেরার পথে তারাগঞ্জের বুড়িরহাট বটতলায় গণপিটুনিতে নিহত হন রুপলাল দাস ও তার ভাগ্নিজামাই প্রদীপ লাল দাস। ভ্যানচোর সন্দেহে তাদের হত্যা করা হয়। পরদিন রুপলালের স্ত্রী অজ্ঞাত ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, বাকিরা পলাতক।

তারাগঞ্জ বাজারের ফুটপাতে রুপলাল মুচির কাজ করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে একই পেশা বেছে নেয় একমাত্র ছেলে জয়। দাদি, মা ও দুই বোনকে নিয়ে তাঁর সংসার।

মা ভারতী রানী বলেন, আমার স্বামী ফুটপাতে জুতা সেলাই করলেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন। ছেলেটা আবার স্কুলে ফিরেছে– এটাই আমার কাছে সবচেয়ে স্বস্তির।

বড় বোন নুপুর দাস এইচএসসি পাস করেছেন। ছোট বোন রুপা দাস ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া। নুপুর দাস বলেন, বাবা জয়কে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। যেদিন সে বাবার পেশায় যোগ দিল, খুব কেঁদেছিলাম। কিন্তু ওকে তো ফেরানোর পথ ছিল না আমাদের। অনেকের সহায়তায় আমরা স্বস্তি পাচ্ছি। জয়কে নিয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ হলে সবার সহযোগিতা স্বার্থক হবে।

জয় জানায়, উপজেলা প্রশাসন এক লাখ টাকা দিয়েছে। বিএনপিসহ অনেকেই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে পাশে দাঁড়িয়েছেন। সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, জয় বিদ্যালয়ে যাচ্ছে জেনে ভালো লাগছে। তার আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন পূরণে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ