শিরোনাম
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সমাজকেই এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে রংপুরে সভা দেশের বিরোধী দল স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে …. রংপুরে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত এড়াতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে প্রশাসনের আবেদন বহুল প্রত্যাশিত কারমাইকেল কলেজের মূল ফটক নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবার পেল বিআরটিএ’র ১ কোটি ৩ লাখ টাকা জমি বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রংপুরে ১’শ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার …. রংপুরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী রংপুর নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করতে ভাঙা সড়ক সংস্কার কাজ শুরু রংপুরে সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

রংপুর বিভাগে বেড়েছে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য: বেড়েছে বিদ্যুৎ খরচ, কাড়ছে প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর / ১৯০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

এক দশক আগেও যানজট-কোলাহলমুক্ত নিরাপদ বিভাগের নাম ছিল রংপুর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে যান্ত্রিক প্রযুক্তি সংযোজিত ‘দ্রুতগতির তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা’ যেন কেড়ে নিয়েছে সেই সুনাম। শুধু বিভাগীয় নগরী রংপুরই নয় বরং গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়সহ বিভাগের অন্য জেলা শহরের চিত্রটাও বদলে গেছে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশার দাপটে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, এমনকি মহাসড়কেও রয়েছে দৌরাত্ম্য।

এতে করে ব্যাটারিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ এসব অটো ও চার্জাররিকশার কারণে সড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনা। সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব। গত কয়েক বছরে রংপুরে আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাপক হারে ব্যাটারিচালিত অটো ও চার্জাররিকশার দাপট বেড়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা শহরে অদক্ষ চালকের কারণে যত্রতত্র বেড়েছে ব্যাপক যানজট। যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। বেড়েছে বিদ্যুতের ওপর চাপ। এসব যানবাহন ঘিরে চুরি, ছিনতাই, খুনসহ সংঘটিত হচ্ছে নানা অপরাধ। শান্তির শহরগুলোতে এখন যেন অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব বাহন।

বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

রংপুর অঞ্চলের মহাসড়কগুলোতে দিন দিন বেড়ে চলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও চার্জাররিকশার দৌরাত্ম্য। আইন অনুযায়ী এসব যানবাহনের মহাসড়কে চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে চলছে উল্টো চিত্র। ফলাফল প্রতিদিনই ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী, ঘটছে দুর্ঘটনা, হারাচ্ছে প্রাণ।

২০২৪ সালে সারাদেশে অন্তত ১ হাজার ২৪৮টি থ্রি হুইলার দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে প্রায় ৬৯৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ৮ দশমিক চার শতাংশ।

অন্যদিকে ২০২৫ সালের মার্চ মাসেই সারাদেশে ঘটে ৫৮৭টি দুর্ঘটনা, নিহত ৬০৪ জন। এর মধ্যে থ্রি হুইলার জড়িত ছিল অন্তত ১৫ শতাংশ দুর্ঘটনা। নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ যাত্রীই ছিল এসব অটোরিকশার আরোহী।

রংপুরে এর করুণ উদাহরণও আছে। কিছুদিন আগে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে একসাথে ৫ জন নিহত হন রংপুরের মহাসড়কে। রংপুরের সাতমাথায় গত ৩১ জানুয়ারি যাত্রীবাহী বাস ও থ্রি হুইলারের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। গত ছয় মাসে রংপুরের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

প্রতিমাসে ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ অটোরিকশায়

রংপুরে ব্যাটারিচালিত অটো ও চার্জাররিকশা প্রতিদিন তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করছে। সেই হিসাবে প্রতিমাসে ৯০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে অটোচার্জে। চলমান বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় অটোরিকশা চার্জ অনেকটা মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বিদ্যু নিয়ে বাড়ছে ভোগান্তি।

জানা গেছে, পাঁচ ব্যাটারি সংযুক্ত একেকটি অটোরিকশা চার্জ দিতে প্রতিদিন ১০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়। সেই হিসাবে এসব আটো চার্জ দিতে ২৫ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অটোরিকশা চার্জ দিতে চলে যাচ্ছে। প্রতিমাসে ৯০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পেছনে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরীর আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক স্পটে ব্যাটারিচালিত চার্জাররকশা, অটোরিকশা বা ইজিবাইকের এসব গ্যারেজ ও চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। প্রতিটি গ্যারেজে রয়েছে চার্জ দেওয়ার সুবিধা। চার্জে অনেক বিদ্যুৎ লাগে। গ্যারেজগুলোর বিদ্যুতের সংযোগ বৈধ না অবৈধ, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

নগরীর কোথাও কোথাও গ্যারেজ ও চার্জিং পয়েন্টে বাণিজ্যিকভাবে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। অনেকের সেটি করার কোনো অনুমতি নেই। অথচ এমন অসংখ্য অবৈধ গ্যারেজ ও চার্জিং পয়েন্ট বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে কিছু কিছু অটোরিকশা চার্জার মালিক অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে অটোরিকশায় চার্জ দিচ্ছেন। আবার কোনো কোনো এলাকায় আবাসিক লাইন থেকেও চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ-সংযোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যুৎ আইনের পরিপন্থী। সুষ্ঠু মনিটরিং করলে অবৈধ চার্জ দেওয়া বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন নগরীর সচেতন মহল।

এ বিষয়ে অটোরিকশাচালক আলমগীর হোসেন বলেন, তারা ভাড়ায় রিকশা চালান। দিন শেষে গ্যারেজে ৫৫০ টাকা দেন। চার্জ দেওয়া, রিকশার মেরামত, সবই মালিক দেখেন। গ্যারেজে অনেক লাইন থাকে, কিছু মিটারও দেখেছেন। তবে এগুলো বৈধ না অবৈধ, তা তারা জানেন না।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সব ওয়ার্কশপ ও চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ করা হবে বলে জানান বিদ্যুৎ বিভাগ।

এ নিয়ে নর্দান ইলেক্টিক সাপ্লাই নেসকো রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, একটি অটোরিকশা চার্জে প্রতিদিন ১০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করছে। বিদ্যুতের একটি অংশ অটোরিকশায় চলে যাচ্ছে।

অটোরিকশার কারনে রংপুর নগরীতে যানজটে চরম দুর্ভোগ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন রংপুর। ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বিশাল এই নগরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব সড়কই এখন ব্যাটারিচালিত অটো ও চার্জাররিকশার দখলে। নিয়ন্ত্রণহীন এসব বাহনের অবাধ বিচরণে অনেকটাই বেসামাল পুরো নগরী। সড়কে বের হলে একাধিকবার পড়তে হয় ট্রাফিক সিগন্যালের মুখে। পুরো নগরের যত্রতত্র পার্কি, যাত্রী উঠা-নামা ও বৈধ অবৈধ রিকশা স্ট্যান্ডের কারণে জনদুর্ভোগের সঙ্গে বেড়েছে যানজট।

রংপুর বিভাগীয় নগর হওয়ায় প্রতিদিন আশপাশের জেলা থেকে লাখো মানুষের আনাগোনায় এই দুর্ভোগ বেড়েছে বহুমাত্রায়। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, অবৈধ এসব বাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ব্যাটারিচালিত অটো ও চার্জাররিকশায় ঠাসা। যাত্রী দেখলেই চালকরা যেখানে-সেখানে রিকশা অথবা অটোরিকশা থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছে। আবার সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীর আশায় অটোরিকশাগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়। থেমে থেমে কোথাও অটোরিকশার জটলা তৈরি হয় আবার কোথাও দীর্ঘ সারি হয়ে যায়। এই দীর্ঘ সারির কারণে পথচারীদের সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে চলাচল করাও বেশ কষ্টকর।

দুর্ঘটনাপ্রবণ ও বিপজ্জনক এসব হালকা যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তবে চিত্র উল্টো। ট্রাফিক আইন অমান্য করে এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এসব অটো ও চার্জাররিকশা যাত্রীদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

সড়কে নিবন্ধনহীন অটোরিকশা চলছে লাখের অধিক

রংপুর মহানগরসহ জেলার আট উপজেলায় বৈধ-অবৈধ মিলে এক লাখের অধিক ব্যাটারিচালিত অটো ও চার্জাররিকশা চলাচল করছে। এরমধ্যে শুধু রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেই রয়েছে অন্তত ৪০ হাজার। পরিস্থিতি এমন, যেন সড়কের ‘রাজা’ নিবন্ধনহীন এসব যানবাহন। অথচ সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স শাখার তথ্য অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ৫ হাজার ৩৪১টি এবং চার্জাররিকশা ৫ হাজার ৮০০টি নিবন্ধিত।

একেকটি অটোরিকশার লাইসেন্স পেতে সিটি কর্পোরেশনে জমা দিতে হয় ১৭ হাজার ৭০০ এবং চার্জাররিকশা ও ভ্যানের জন্য ৩ হাজার ৩০০ টাকা।

কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েকবছর ধরে সিটি কর্পোরেশন থেকে নতুন করে এসব বাহনের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এখন শুধু নবায়ন করা হচ্ছে। তবে বাইরে অন্য কারও কাছ থেকে একেকটি অটোরিকশার পুরোনো লাইসেন্স হাত-বদলে গুনতে হচ্ছে লাখ টাকা।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মিজু বলেন, অটোরিকশার লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে। নতুন করে আর কোনো লাইসেন্স ইস্যু হয়নি। বিগত সময়ের দেওয়া লাইসেন্সই বহাল রয়েছে। এখন শুধু নবায়ন করার সুযোগ রয়েছে। যারা নবায়ন করছে না এবং অবৈধ ও অনিবন্ধিত অটো, রিকশা ও ভ্যান ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, ২০০৬-০৭ সালের দিকে একটি প্রতিষ্ঠান সর্বপ্রথম চীন থেকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক আমদানি করে বলে জানান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। সরকারি এই সংস্থাটি বলছে, এগুলোর ডিজাইন এবং ফিটনেস পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় নিবন্ধন ও রুট পারমিট দেওয়া হয়নি। একটু ঝাঁকুনি লাগলেই উল্টে যায়।

তবে পরবর্তীতে আমদানিকারকরা এগুলো আমদানি চালিয়ে যান এবং গ্রামাঞ্চলে বিক্রি শুরু করেন। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে এগুলো স্থানীয়ভাবে চলাচল করতে থাকে এবং ধীরে ধীরে এর সংখ্যা রংপুরসহ সারা দেশে ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে।

অভিযান-জরিমানা করেও নেই সুফল

রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে গণমাধ্যমে বলেন, অভিযান চালানো হলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে অনিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত অটো ও চার্জাররিকশা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি যাত্রীদের চাহিদাও এদের টিকিয়ে রাখছে। হাজারো পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এসব বাহন। তবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ যানজট নিরসনে নিয়মিত অভিযানে জব্দ ও জরিমানা করা হয়ে থাকে।

বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) শফিকুল আলম সরকার বলেন, যানজট সৃষ্টির মূল কারণ অটোরিকশা। চালকদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই, কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। তারা জানে না কীভাবে অটোরিকশা চালাতে হবে। ব্যাটারিচালিত তিন চাকার বাহনগুলো কমপক্ষে শতকরা ১৫ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

এ বিষয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল আলম বলেন, নিয়মিত অভিযান ও জরিমানা করেও অনিবন্ধিত যানবাহনের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না। প্রতি মাসেই কম-বেশি অভিযান চলছে। নগরীতে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় যানজটের চাপে আমাদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগও চেষ্টা করছে। কিন্তু শুধু আইন প্রয়োগ করে তো এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা, সহযোগিতা, সচেতনতা এবং পরিকল্পিত নগরায়নের আকাঙ্খা থাকতে হবে।

অটোর ব্যাটারির সিসা ধ্বংস হয় না, থেকে যায় প্রকৃতিতে

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ব্যবহৃত ব্যাটারির পুনঃচক্রায়ন প্রক্রিয়া এবং পরিবেশে এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সেই গবেষণার তথ্য বলছে, ব্যাটারিচালিত অটো ও চার্জাররিকশা মানুষের অগোচরে জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের অকল্পনীয় সর্বনাশ করে যাচ্ছে। খরচ কম, তাই জনগণ ব্যবহার করছে কিন্তু এর ফলাফল কেউ ভাবছে না।

ব্যাটারিতে ব্যবহৃত সিসা ‘ধ্বংস হয় না’ বরং ‘প্রকৃতিতে থেকে যায়’-এমনটাও বলা হয়েছে গবেষণা থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে। সিসার কারণে মানুষের আইকিউ লেভেল কমে যায়, মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। সিসা হাইপারটেনশন ও কার্ডিওভাসকুলার রোগের জন্যও দায়ী।

অটোচালক, শ্রমিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সংগঠকসহ বিভিন্ন পেশার অন্তত ২০ জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের আগেও রংপুরে অটোরিকশার যেমন দাপট ছিল, ৫ আগস্টের পর সেই দাপট ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। ট্রাফিক বিভাগের শিথিল নজরদারির সুযোগে এখন নগরীর অলিগলি থেকে প্রধান সড়কগুলোতেও অটোরিকশার নির্বিঘ্ন চলাচল চোখে পড়ছে। যা নগরবাসীর নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।

রংপুর জেলা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সমবায় সমিতির এক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে গণমাধ্যমে বলেন, অবৈধ অটো ও চার্জাররিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে আমরা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত অভিযান, জরিমানা ও আলাদা লেন তৈরি করাসহ চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিতে সিটি কর্পোরেশনকে একাধিকবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবনার প্রতি কোনো রকম গুরুত্ব হয়নি।

শ্রমিক নেতার এই অভিযোগের কিছুটা সত্যতা থাকলেও এসব যানবাহনের লাগাম টানতে বিভিন্ন সময় সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে নানান রকম উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। তবে অটো ও চার্জাররিকশার চালক, শ্রমিক, মালিক ও ব্যবসায়ীদের নানামুখী চাপ, আন্দোলনের হুমকি, জনপ্রতিনিধিদের ভোটব্যাংক পলিসি এবং কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার অজুহাতে ভেস্তে গেছে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া উদ্যোগ। এ কারণে সচেতন মহল বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের অনীহা ও প্রশাসনের ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’- নীতির কারণে সড়কে অটো ও চার্জাররিকশার একচেটিয়া রাজত্ব এখনো দৃশ্যমান।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে সারা দেশেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ করা দরকার বলে মনে করেন সচেতন মহল। তবে অটোচালকরা বলছেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে হঠাৎ এগুলো বন্ধ করে দিলে লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে, সেই সঙ্গে বাড়বে অপরাধ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ