রংপুরে জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলটিতে ভাঙন ধরেছে। সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর গুপ্তপাড়ায় মহানগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি দুদা মিয়া ও আহিয়াত, সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আহিয়ার রহমান। এছাড়াও, মেকুড়া উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাদা মিয়া এবং রফিকুল ইসলাম, জাহিদুল, মহব্বত আলীসহ আরও অনেকে বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদান অনুষ্ঠানে তারা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামুর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে নতুন পথচলার সূচনা করেন।
দলত্যাগের কারণ হিসেবে জাতীয় পার্টির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী বলেন, “জাতীয় পার্টির লেজুড়ভিত্তিক ও মেরুদণ্ডহীন রাজনীতি জনগণ আর মেনে নিচ্ছে না। নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য বিএনপির কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, রংপুরের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং জাতীয় পার্টি রংপুরকে শোষণ করেছে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে আসছেন।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে দলে স্থান দেব না।” নতুন সদস্যদের প্রতি তিনি তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, শামসুজ্জামান সামু বর্তমানে রংপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার পাশাপাশি মহানগর সদস্য সচিব মাহফুজুর নবী ডন এবং অ্যাডভোকেট শফিক আমালও মনোনয়নের জন্য মাঠে কাজ করছেন। এই যোগদান অনুষ্ঠানকে আসন্ন নির্বাচনের আগে বিএনপির শক্তি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।