শিরোনাম
রংপুরে নিখোঁজের একদিন পর শিশু সানজিদার লাশ উদ্ধার জমি নিয়ে বিরোধে হামলায় নারীসহ গুরুতর আহত ৫ রংপুরে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে রাস্তায় আলু ফেলে চাষীদের বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ রংপুরে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু হোটেল কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে মালিক মিঠাপুকুরে মিশুক ছিনতাইকারী নারী আটক ব্র্যাক সীডের উদ্যোগে টেকসই ও নিরাপদ কৃষি কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইন্টার্ণদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবীতে রংপুরে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন রমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

মিঠাপুকুরে ভূমি অফিসে ঘুষের মহোৎসব; ঘুষ নিয়ে জমির খাজনা কমিয়ে দেন ভূমি কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর / ২৫৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আল-আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে জমির খাজনা কমিয়ে দেওয়াসহ ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুই ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি বর্তমানে রংপুর জেলা প্রশাসকের তদন্তাধীন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল অভিযোগ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করেছেন এবং তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘুষের বিনিময়ে খাজনার রসিদে কারচুপি

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লতিবপুর এলাকার বাসিন্দা কামরুজ্জামান তার জমির খাজনা পরিশোধ করতে গিয়েছিলেন। ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আল-আমিন তার কাছে ৩৩,৭৫৯ টাকা দাবি করেন, যার মধ্যে কামরুজ্জামান ২৬,৫০০ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু তাকে মাত্র দুটি রসিদ দেওয়া হয়, যার একটিতে ১,৫৬২ টাকা এবং অন্যটিতে ১,৮৭৯ টাকা উল্লেখ ছিল। বাকি টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে আল-আমিন বিষয়টি এড়িয়ে যান।

একইভাবে, তাহিয়ারপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোকলেছুর রহমানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। তার জমির খাজনা বাবদ আল-আমিন ৬,০৮৩ টাকা গ্রহণ করলেও, তাকে মাত্র ১,০৮৩ টাকার রসিদ ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাকি টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। ভুক্তভোগীরা জানান, মৌখিকভাবে এক অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়, কিন্তু রসিদে কম টাকা দেখানো হয়, এবং বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

“ঘুষ বাণিজ্যের কেন্দ্রে” পরিণত হয়েছে ভূমি অফিস

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “জমির খারিজ, নামজারি, খাজনা প্রদান কিংবা রেকর্ড সংশোধন—যে কোনো কাজের জন্যই টাকা ছাড়া এই অফিসে কোনো ফাইল নড়ে না।” তিনি আরও বলেন, জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন “ঘুষ বাণিজ্যের কেন্দ্রে” পরিণত হয়েছে এবং ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আল-আমিনকে ঘুষ না দিলে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। অফিসে একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা সেবাপ্রার্থীদের ঘুষ দিতে বাধ্য করছে বলেও তিনি জানান।

ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান এবং মোকলেছুর রহমান দুজনেই ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন মিয়াকে “দুর্নীতির আখড়া” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা অভিযোগ করেন যে, তিনি সাধারণ মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার অস্বীকার ও প্রশাসনের আশ্বাস

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আল-আমিন মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এখন তো হাতে হাতে টাকা নেওয়ার কোনো কার্যক্রম নাই। আপনি যদি আবেদন করেন, আমরা জমির খতিয়ান দেখি, ঠিক আছে কি না। তারপরে এপ্রুভাল দেই।”

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমুল আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল অবশ্য জানিয়েছেন যে, তারা এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমি অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ