শিরোনাম
বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত এড়াতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে প্রশাসনের আবেদন বহুল প্রত্যাশিত কারমাইকেল কলেজের মূল ফটক নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবার পেল বিআরটিএ’র ১ কোটি ৩ লাখ টাকা জমি বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রংপুরে ১’শ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার …. রংপুরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী রংপুর নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করতে ভাঙা সড়ক সংস্কার কাজ শুরু রংপুরে সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ..রংপুরে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল রংপুরে বস্তাবন্দী অবস্থায় নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন

জিনের বাদশাহর ভণ্ডামি: মিঠাপুকুরে দুই দশক ধরে প্রতারণার সাম্রাজ্য, অলৌকিকতার নামে সর্বস্বান্ত অসংখ্য পরিবার

মোঃ সুলতান মারজান (হৃদয়) মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি: / ১৯৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫

রংপুরের মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের শালাইপুর তেলীপাড়া গ্রামে বসবাসকারী শাহাদৎ হোসেন, যিনি এলাকায় ‘নয়া ফকির’ নামে পরিচিত, নিজেকে ‘জিনের বাদশাহ’ কিংবা ‘তান্ত্রিক কবিরাজ’ দাবি করে গত দুই দশক ধরে সাধারণ মানুষের আস্থা ভাঙা ও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

শাহাদৎ হোসেন লম্বা সাদা দাড়ি ও দরবেশি পোশাকে নিজেকে তাবলিগ জামাতের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, তার কাছে ৫০ হাজার জিন বন্দি রয়েছে, যাদের মাধ্যমে মানুষের নানা সমস্যা সমাধান করেন। স্বপ্নের মাধ্যমে কবিরাজি শিখে মুরগির রক্ত দিয়ে তাবিজ লেখেন বলেও জানান।

তবে তার এই চিকিৎসা বা অলৌকিক ক্ষমতার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কথায় কথায় তিনি বলেন, “ঔষধের দোকান করলে তো ঔষধ বিক্রি করতে করতে দোকানিটাই ডাক্তার হয়ে যায়।” যদিও তিনি কারমাইকেল কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জনের কথাও বলেন।

বিশেষত নিঃসন্তান দম্পতিদের উপর তার প্রভাব বিস্তার করে বহু পরিবারকে সর্বস্বান্ত করেছে। দাবি করেন, তার চিকিৎসায় অনেক দম্পতি সন্তান লাভ করেছেন, এমনকি যারা বড় শহরের চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়েছেন। ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

প্রতারণার ফলে অর্জিত অর্থে শাহাদৎ হোসেন গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি। তার ছেলে জাকারিয়া এই কাজে সক্রিয় সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মফিজুল ইসলাম নামের একজন বলেন,

“আমার স্ত্রী দীর্ঘ বছর ধরে সন্তান হচ্ছিল না। শাহাদতের কাছে অনেক টাকা দিয়েছি, কিন্তু কোনো সুফল পাইনি। আমরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছি।”

এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর সে বলেছিল জিন পাঠিয়ে আমার সব সমস্যা সমাধান করবে। আমি তার কথা বিশ্বাস করে নিজের সর্বস্ব দিয়েছি , কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।”

এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “বছর ধরে সে মানুষকে ঠকাচ্ছে। অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পায়, কারণ সে প্রভাবশালী।”

মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “যে কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে এলে আমরা তদন্ত করব। প্রমাণ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেব।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ