শিরোনাম
রংপুর হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু রংপুরে নিখোঁজের একদিন পর শিশু সানজিদার লাশ উদ্ধার জমি নিয়ে বিরোধে হামলায় নারীসহ গুরুতর আহত ৫ রংপুরে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে রাস্তায় আলু ফেলে চাষীদের বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ রংপুরে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু হোটেল কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে মালিক মিঠাপুকুরে মিশুক ছিনতাইকারী নারী আটক ব্র্যাক সীডের উদ্যোগে টেকসই ও নিরাপদ কৃষি কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইন্টার্ণদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবীতে রংপুরে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন

জবি শিক্ষার্থী জুবায়েদ হত্যার প্রতিবাদে বেরোবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও সমাবেশ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক / ১৬৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল। সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। “ফ্যাসিবাদের দোষরা হুঁশিয়ার, সাবধান”, “ছাত্রদলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”, “আমার ভাই মরল কেন, ইন্টেরিম জবাব দে”, “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে”, “খুনিদের ফাঁসি চাই”, “জবিতে লাশ পড়ে, ইন্টেরিম কি করে”, “শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসাথে চলে না”, “নিরাপদ ক্যাম্পাসই ছাত্রদলের অঙ্গীকার” ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাশেদ মন্ডল বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও তার কোনো বিচার হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি সাম্য হত্যাকাণ্ড হয়েছে, পারভেজ হত্যাকাণ্ড হয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব ঘটনার কোনো সুষ্ঠু বিচার করতে পারেনি। এখন আমাদের ভাই জুবায়েদকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ খুনিরা এখনও মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হয় এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি না করা হয় তাহলে এমন আরও হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। আমরা আর কোনো ভাইকে হারাতে চাই না, আর কোনো মায়ের কোলে লাশ দেখতে চাই না। তাই আমরা জুবায়েদ হত্যাকাণ্ডসহ সাম্য ও পারভেজ হত্যার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।”

আহ্বায়ক মোঃ আল আমিন ইসলাম বলেন, “খুনি হাসিনা ও স্বৈরাচারের দোসরদের বিরুদ্ধে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা ছিল তা না নেওয়ায় আজ আমাদের ভাই জুবায়েদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্বৈরাচারের দোসররা এখনো অবস্থান করে আছে। গতকাল এক নারী শিক্ষার্থীকে জুবায়েদ হত্যাকাণ্ডের নামে গ্রেফতার করা হয়েছে; তবু এটি কোনো সমাধান হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে স্বৈরাচ্য ও ক্ষমতালিপ্সু রাজনৈতিক শক্তিদের দায়-দায়িত্ব নির্ণয় করে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশবাসী একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা বারবার ভঙ্গ হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ জুবায়েদ হত্যাকাণ্ড সেই নৃশংস বাস্তবতার আরেকটি প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।

সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং জুবায়েদ হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ