শিরোনাম
বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত এড়াতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে প্রশাসনের আবেদন বহুল প্রত্যাশিত কারমাইকেল কলেজের মূল ফটক নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবার পেল বিআরটিএ’র ১ কোটি ৩ লাখ টাকা জমি বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রংপুরে ১’শ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার …. রংপুরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী রংপুর নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করতে ভাঙা সড়ক সংস্কার কাজ শুরু রংপুরে সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ..রংপুরে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল রংপুরে বস্তাবন্দী অবস্থায় নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন

ছেলের খুনিরা এখনো বাইরে বিচারও হইলো না- আবু সাঈদের মা

স্থানীয় রিপোর্ট / ১৫৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

আমার ছেলেকে যারা হত্যা করলো তারা এখনো বাইরে ঘুরে বেড়ায়, চাকরি করে! তাদের তো ধরে না। এখনো বিচারও হইলো না, বিচার আর কোন দিন হইবে?’ আক্ষেপ করে এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম। দুচোখ বেয়ে ঝরা অশ্রুধারা ছাপিয়ে এ সময় তার চোখে-মুখে ছেলে হারানোর শোকের পাশাপাশি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে দীর্ঘ এক বছরেও আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ার ক্ষোভ ও আক্ষেপের চিহ্ন। ছেলে হত্যার বিচারের অপেক্ষায় থাকা শোকে মুহ্যমান এই মা ছেলের ছবির দিকে তাকিয়ে শুধুই প্রশ্ন করেন—‘আমার ছেলের দোষটা কী ছিল?’ এ চিত্র গত রোববার দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুরে আবু সাঈদের গ্রামের বাড়ির। এমন প্রেক্ষাপটের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি হতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন পার্ক মোড় এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। যে ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরির পাশাপাশি আন্দোলনের পালে লাগে জোর হাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছিলেন ওই আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় মুখ। বিক্ষোভরত অবস্থায় পুলিশের গুলিতে অসময়ে নিভে যায় তার জীবন প্রদীপ। সেদিন থেকে শুরু হয় আবু সাঈদের পরিবারের শোকযাত্রা, আর বিচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা।

ছেলে হারানোর পর থেকেই ছেলের কবরের পাশে বসে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে মনোয়ারা বেগমের। দরজার পাশে বসে থাকেন একাকী, চোখে সর্বক্ষণ জলের রেখা।

বিলাপ করতে করতে মনোয়ারা বেগম কালবেলাকে বলেন, ‘আমার ছেলের কি দোষ আছিল! সে তো কোন দোষ করে নাই। কিন্তু গুলি করি হামার ব্যাটাক মারি ফেলাইছে। এক বছর হয়া গেইলেও এখনো বিচার হইলো না! হামার কোনো চাওয়া নাই, যারা খুন করছে তাদের যেন শাস্তি হয়।’—এ কথাগুলো বলেই কান্নার ভারে ফের থেমে যান মনোয়ারা বেগম।

শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম কথা বলার সময় পাশে বসা বাবা মকবুল হোসেন কথা বলছিলেন একবুক গর্ব ও কষ্টের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে। তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার সব মানুষ আছে; কিন্তু আমার ছেলে নাই—এ দিক দিয়ে খুব দুঃখ পাই। কিন্তু আমার ছেলের উছিলায় অনেক আলেম-ওলামা জেল থেকে ছাড়া পাইছে—এইটা ভাবলে গর্ব হয়।’

আবু সাঈদের বাবার চোখে একরাশ শোক থাকলেও সন্তানের আত্মত্যাগ যে বড় কিছু পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তাতে যেন এক ধরনের তৃপ্তিও খুঁজে পান তিনি। মকবুল হোসেন বলেন, ‘সরকার সুনজর দিয়ে অপরাধীর যেন বিচার করে। আমি চাই সরকার কঠিনভাবে বিচার করুক। আমার ছেলের সঙ্গে আরও হাজার হাজার মানুষ শহীদ হইছে, অনেক বাপ-মার বুক খালি হইছে। আমি চাই, এমনটা যেন আর কোনো মায়ের সঙ্গে না হয়। যা হইছে আমার, তা যেন আর কারও না হয়।’

এদিকে গতকাল সোমবার আবু সাঈদ হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে এ মামলার ৩০ আসামির মধ্যে পলাতক ২৬ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাদের মধ্যে আছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ। গতকাল সকালে ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে ৩০ জনকে আসামি করা হয়। যাদের মধ্যে মাত্র চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

এর আগে গত ২৬ জুন আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা থেকে প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়।

তবে এর মধ্যেই এ প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তারা এ হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে গণশুনানির দাবিতে কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ