গাইবান্ধা সদরে একটি চাগুয়ার গাছ কাটার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই শিশু বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই গাছ কাটায় জড়িত গাছ মালিক মতিয়ার রহমান ও তার সহযোগী মধু মিয়া ও সাত্তার মিয়াসহ অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে।
নিহত দুই বোন হলেন, ফিয়া মনি (১১) ও খান্নাতি খাতুন (দেড় বছর)। তারা ওই গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে। ফিয়া মনি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খামার রঘুনাথপুর গ্রামের মতিয়ার মিয়ার বাড়ির সীমানা সংলগ্ন ঝোপঝাড়ে ঘেরা বিভিন্ন গাছের মধ্যে একটি বড় ও পুরনো চাগুয়ার গাছ ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গাছ মালিক মতিয়ার রহমান, মধু মিয়া ও সাত্তার মিয়াসহ ৩–৪ জন মিলে গাছটি কাটতে শুরু করেন।গাছ কাটার সময় কোনো ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গাছ কোন দিকে পড়বে তা নির্ধারণ করা হয়নি, গাছে কোনো রশি বাঁধা ছিল না এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতাও অবলম্বন করা হয়নি। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে গাছের গোড়া কাটতেই প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতার গাছটি হুড়মুড়িয়ে দক্ষিণ দিকে ভেঙে পড়ে। এতে বাড়ির সীমানা ঘেরা টিনের বেড়া ভেঙে গাছটি পাশের ফসলি জমির ওপর আছড়ে পড়ে। ওই স্থানটি চলাচলের রাস্তা ও ফাঁকা জমি হওয়ায় সেখানে অবস্থান করছিল দুই বোন। তারা গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গাছের চাপায় ১১ বছর ও দেড় বছরের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে । নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের পিছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আরও অনন্ত ১০-১২জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে গাইবান্ধা- পলাশবাড়ী সড়কের গড়েয়াব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জানান,ঘন কুয়াসা থাকার কারনে সকাল ৭টার দিকে ক্রাউন সিমেন্টের একটি ট্রাক ঢাকা থেকে গাইবান্ধা যাচ্ছিল। পথে গড়েয়াব্রিজ এলাকায় বেপরোয়া গতির কাজী লাইন পরিবহনের যাত্রিবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটিকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের বামপাশ দুমড়ে-মুচড়ে দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এতে আরও অনন্ত ১০-১২জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার কাজীবাড়ি সন্তোলা গ্রামের গণি আকন্দের ছেলে বাসের হেলপার মূসা আকন্দ(২৫) ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ধনাশলা গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে জামিল হোসেন(২০)। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালায়। নিহতের মরদেহ উদ্ধারসহ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় দূর্ঘটনা কবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার নেই। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক।