শিরোনাম
রংপুরে নিখোঁজের একদিন পর শিশু সানজিদার লাশ উদ্ধার জমি নিয়ে বিরোধে হামলায় নারীসহ গুরুতর আহত ৫ রংপুরে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে রাস্তায় আলু ফেলে চাষীদের বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ রংপুরে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু হোটেল কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে মালিক মিঠাপুকুরে মিশুক ছিনতাইকারী নারী আটক ব্র্যাক সীডের উদ্যোগে টেকসই ও নিরাপদ কৃষি কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইন্টার্ণদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবীতে রংপুরে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন রমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ: গৃহবধূর গয়না ও বদনা কেড়ে নিল এনজিও

ডেস্ক রিপোর্ট / ২৭১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫

বাগেরহাটের চিতলমারীতে ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (DFED) নামের একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মীদের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূর স্বর্ণের আংটি, নাকফুল ও পিতলের বদনা জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ শ্রাবণী হীরা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গৃহবধূর অভিযোগ:

২২ বছর বয়সী শ্রাবণী হীরা জানান, তিনি DFED-এর চিতলমারী শাখা থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, যা লাভসহ ৪৫ হাজার ১২০ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তার স্বামী কাজের জন্য এলাকা ছাড়লে কয়েকটি কিস্তি বাকি পড়ে যায়। শ্রাবণীর অভিযোগ, গত ২৯ অক্টোবর সকালে এনজিও কর্মীরা তাকে ও তার তিন বছরের কন্যাকে বাড়ি থেকে ডেকে অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। বিকেলে ফিল্ড থেকে কর্মকর্তারা ফিরে আসার পর তাকে দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে তার হাতের আংটি, নাকফুল এবং পিতলের বদনা কেড়ে নেয়। এ সময় একটি ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও তিনি জানান। শ্রাবণী বলেন, “আমাকে তালাবদ্ধ করে ভয় দেখানো হয়। আমার মেয়ে ক্ষুধায় কাঁদছিল, কিন্তু আমি কিছু বলতে পারিনি।” এনজিও কর্মীরা পাশ বইয়ে ‘আংটি বাবদ ৮ হাজার’ এবং ‘বদনা বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা’ জমা হিসেবে লিখে রেখেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এনজিওর বক্তব্য:

এ বিষয়ে জানতে চাইলে DFED চিতলমারী শাখার ম্যানেজার বাসুদেব দেবনাথ জানান, গৃহবধূ শ্রাবণী কিস্তি খেলাপি ছিলেন। তিনি নাকফুল নেওয়ার বিষয়টি শুনেছেন এবং ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন। তবে এনজিওর কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গৃহবধূ নাকি খুশি হয়েই তার গয়না ও বদনা দিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়:

গত শনিবার (৮ নভেম্বর) শ্রাবণী হীরার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এনজিওর এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

এই ঘটনা এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়ার অভিযোগকে সামনে এনেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ