আমরা প্রায়ই শুনি, কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু অনেকেই জানি না, ঠিক কত বছর বয়স থেকে নিয়মিত কোলেস্টেরল টেস্ট করানো দরকার। চলুন আজ সহজভাবে জানবো— কার কখন কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত, কেন তা দরকার এবং কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন।
প্রথমেই জেনে নেওয়া দরকার কোলেস্টেরল কী? কেন গুরুত্ব দিয়ে এটি দেখা জরুরি? কোলেস্টেরল একধরনের ফ্যাট, যা আমাদের শরীরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এটা রক্তে প্রোটিনের সঙ্গে মিশে লিপোপ্রোটিন তৈরি করে এবং শরীরে ঘোরাফেরা করে।
তবে সমস্যা হয় তখনই, যখন কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়। তখন হার্টের রোগসহ অনেক জটিল অসুখ দেখা দিতে পারে।
কোন বয়স থেকে কোলেস্টেরল টেস্ট করাবেন?
চিকিৎসক ডা. আশিস মিত্র জানাচ্ছেন, আগে যেসব হার্টের অসুখ শুধু বয়স বাড়লে হতো, এখন তা কম বয়সেও দেখা যাচ্ছে। তাই বয়স ২৫ পেরোলেই পুরুষদের জন্য কোলেস্টেরল টেস্ট শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নারীদেরর ক্ষেত্রে, বয়স ৪০-এর পর থেকে বছরে অন্তত একবার এই টেস্ট করানো উচিত। এতে আগেভাগে জানা যাবে সমস্যা আছে কি না এবং সময় থাকতে চিকিৎসা শুরু করা যাবে।
কোন টেস্টটা করাতে হবে?
কোলেস্টেরল পরীক্ষার জন্য সাধারণত লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করানো হয়। এতে জানা যায়—
– খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কতটা
– ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কতটা
– ট্রাইগ্লিসারাইডস নামের ক্ষতিকর ফ্যাট কতটা আছে
রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসক পরামর্শ দেন খাবার, জীবনযাত্রা বা ওষুধের।
বেশি কোলেস্টেরলের লক্ষণ
বেশিরভাগ সময়েই শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে তেমন কোনও স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দেয় না। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ হতে পারে, যেমন :
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে টেস্ট করিয়ে নেওয়া উচিত।
কোলেস্টেরল বাড়া মানেই সব সময় বিপদ নয়, তবে অবহেলা করলে বড় সমস্যা হতে পারে। তাই সময় থাকতেই পরীক্ষা করান, খাবারে সচেতন হোন, এবং জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনুন।