জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দেশ ও জাতিকে আর টুকরো টুকরো করতে চাই না। আর বিভক্ত করতে চাই না। সাম্য ও ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের হাতকে শক্তিশালী করুন। নির্বাচনে দেশবাসী সেবা করার সুযোগ পেলে আমরা বলবো আসুন আগামী ৫ বছর এক হয়ে দেশ পরিচালনা করি। তবে এক্ষেত্রে তিনটি শর্ত মেনে আসতে হবে। দূর্নীতি করবো না, কাউকে দূর্নীতির আশ্রয় দেব না, সবার জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা ও বস্তা পঁচা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারী) রাতে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, দূর্নীতি যেন আর সমাজে চলাফেরা করতে না পারে এমন দেশ ও সমাজ গড়ার জন্য দেশবাসী মুখিয়ে আছে। বিশেষ করে যেসব যুবকরা গণঅভ্যূত্থানে রক্ত দিয়েছে তারা মুখিয়ে আছে। আমরা তাদের কাছে ওয়াদাবদ্ধ, তাদের আকাঙ্খতা পূরণে লড়াই যতদিন চালিয়ে যেতে হবে আমরা প্রস্তুত। এ লড়াই থামবে না। এ লড়াই তখনই পূর্ণতা পাবে যখন জনগণ ও যুব সমাজের আকাঙ্খা পূরণ হবে।
তিনি বলেন, ৫ তারিখের পরিবর্তনের পর ভেবেছিলাম আমরা পতিত সরকার থেকে শিক্ষা নেব। মানুষের সম্পদ, ইজ্জত ও জীবনের দিকে হাত বাড়াবো না। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। আমরা বলেছিলাম একজনও সাধারণ নিরীহ মানুষকে অভিযুক্তের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করা হবে না। কাউকে মামলায় আসামী বানানো হবে না। তাই আমরা হাজার হাজার মামলা করিনি। ৮টি মামলা করেছি যেখানে আসামী মাত্র একজন। আমরা চাই না কেউ প্রতিহিংসার শিকার হয়ে, কেউ লোভ-লালসার শিকার হয়ে একদিনের জন্য জেলে ভাত খাক। সাড়ে ১৫ বছর দফায় দফায় জেলে গিয়েছি। আমরা নিজেরা মজলুম হয়েছি, কাউকে মজলুম বানাতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, আমরা সাম্য, দূর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, আধিপত্যবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা চাই যেসব যুবকরা মৌলিক দাবী নিয়ে রাস্তায় নেমেছি বলেছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা সেই ন্যায় বিচারের বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই বাংলাদেশ গড়ার কথা যে বলবে তাদের নিজেদের চরিত্রের প্রমাণ দিতে হবে যে তারা এটার জন্য উপযুক্ত। কোন অসৎ, দূর্নীতিবাজ যদি অনেক সুন্দর করে গল্প শোনায়, তাদের কথা বিশ^াস করা যাবে না। তারা নির্বাচনে রঙ্গীন স্বপ্ন দেখিয়ে চতুর্থ আসমানে পাঠাবে। তারা ধোঁকাবাজ, তাদের চিনে রাখবেন। তাদের ইয়েস নয়, বলবেন তোমাদের জন্য লাল কার্ড।
জামায়াতের আমির বলেন, আমরা কাউকে বেকার ভাতা দেব না। দেশে বেকারের কারখানা করতে চাই না। প্রত্যেক কর্মক্ষম নারী-পুরুষ তাদের দু’হাতকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। বেকারদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দিতে চাই।
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে বলছেন নির্বাচিত হলে কর্মক্ষেত্রে মা-বোনেরা সুযোগ পাবে কি। ঘরের ভেতরে মা বোনের চলতে পারলে, সমাজে চলতে পারবে না কেন। ঘর যেমন নারী ছাড়া চলে না, সমাজও নারী ছাড়া চলবে না। দক্ষতা অনুযায়ী সকল জাতি, ধর্মের নারীদের কাজের সুযোগ করে দেয়া হবে।
রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, শিবিরের সেক্রেটারী সিবগাতুল্লাহ, রংপুর-১ আসনের প্রার্থী রায়হান সিরাজী, রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী, রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিনসহ জামায়াত ও শিবিরের নেতারা। শেষে জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান প্রার্থীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আগামী নির্বাচনে তাদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।