গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি অসুস্থ ও বিপন্ন প্রজাতির ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ শকুন উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজে শাখার সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বলোরাম গ্রাম থেকে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর’ (টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ) এর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সদস্যরা শকুনটিকে উদ্ধার করেন। পরে সন্ধ্যায় এটি গাইবান্ধা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার বলোরাম এলাকার বাসিন্দা আবিদ জমিতে শকুনটিকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে ‘তীর’ গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা স্থানীয়দের সহায়তায় শকুনটিকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা বন বিভাগে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন আগামীকাল শকুনটিকে রংপুর বনবিভাগে হস্তান্তর করা হবে। এ বছরের শুরুতে তীর গাইবান্ধা ইউনিট এর সদস্যরা আরো একটি শকুন উদ্ধার করে রংপুর বন বিভাগে হস্তান্তর করেছে।
প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থাগুলোর জোট আইইউসিএন (IUCN)-এর প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুলতান আহমেদ জানান, হিমালয়ের প্রচণ্ড ঠান্ডা ও হিমঝড় সহ্য করতে না পেরে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এই শকুনগুলো সমতলের দিকে চলে আসে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময় তারা অনেক সময় উড়তে পারে না, যাকে স্থানীয়রা অসুস্থতা ভেবে ভুল করেন।
তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজে শাখার সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন বলেন,বাংলাদেশে একসময় সাত প্রজাতির শকুন থাকলেও বর্তমানে রাজশকুন পুরোপুরি বিপন্ন। দেশে মাত্র ২৬০টির মতো বাংলা শকুন টিকে আছে। এই পরিস্থিতিতে পরিযায়ী হিমালয়ান গৃধিনী শকুন রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তীরের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত এই পাখিগুলো মৃত পশুর মাংস খেয়ে পরিবেশকে রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখে।’
তিনি আরো বলেন, গাইবান্ধা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের পরামর্শে শকুনটিকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে আগামীকাল সকালে রংপুর বনবিভাগে হস্তান্তর করা হবে। রংপুর বন বিভাগ থেকে শকুনটিকে উন্নত পরিচর্যার জন্য দিনাজপুরের সিংড়া জাতীয় উদ্যানের ‘শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যাকেন্দ্রে’ পাঠানো হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাবেক সভাপতি জিসান মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক মেজবাহুল হক, সদস্য বাপ্পি মহন্ত ও সোহেল রানা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তীর’ ২০১১ সাল থেকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সংগঠনটি ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জাতীয় পুরষ্কার -২০২১’ ভূষিত হয়েছে।