রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোর রাতে উপজেলার ১৩নং গোপালপুর ইউনিয়নের ধাপ উদয়পুর গ্রামে।
নিহতের নাম আব্দুল ওয়াজেদ (২২)। তিনি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং বড়দরগা ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামের মোঃ মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেড় মাস আগে ওয়াজেদ পারিবারিকভাবে গোপালপুর ইউনিয়নের ধাপ উদয়পুর গ্রামের মোঃ রঞ্জু মিয়ার প্রতিবন্ধী মেয়ে মোছাঃ রজনি বেগমকে বিবাহ করেন। বিবাহের পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন এবং শ্বশুরের কসাই ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে স্বামী-স্ত্রী ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে রজনি বেগম প্রকৃতির ডাকে বাইরে গেলে, ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করেও স্বামী দরজা না খুললে কান্নাকাটি শুরু করেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ডেকে আনেন। পরে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন, ওয়াজেদ ঘরের ধরনার সাথে গলায় রশি পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন।
খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
জানা যায়,য মৃত ওয়াজেদ মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই স্ত্রীর কাছে মাদকের জন্য টাকা চাইতেন। প্রতিবন্ধী স্ত্রীর কারণে পারিবারিক জীবনে অশান্তি বিরাজ করায় তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।