ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা হয়নি। তবুও চারিদিকে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মাঝেও নির্বাচনী উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটাররা মনে করছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত মিলছে আগামী বছরের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে এক চমকপ্রদ লড়াই। ভোটের মাঠে এবার দেখা যাবে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, তরুণ নেতৃত্ব ও চিকিৎসক-শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ উপজেলা ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০। এখানে রয়েছে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি। রয়েছে মিঠাপুকুর ইকোপার্ক, মোহন আমলের ঐতিহাসিক স্থাপত্যসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দর্শনীয় স্থান।
বিগত নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির আধিপত্য থাকলেও গত জুলাই অভ্যুত্থানের পর পাল্টে গেছে রাজনীতির মাঠের চিত্র। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা ভোটের মাঠে নেই। ফলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয়ভাবে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত।
এই আসনে বিএনপির অন্তত ৭ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। আলোচনায় থাকা নেতারা হলেন, মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য, অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোতাহারুল ইসলাম নিক্সন পাইকাড়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, ড্যাব-এর আজীবন সদস্য, ডা. জহুরুল হক। রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, অধ্যাপক সাজেদুর রহমান রানা। সাবেক উপজেলা ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবকদল সভাপতি, সাবেক উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, এ কে এম রুহুল্লাহ জুয়েল। শাহবাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক রমনা থানা ছাত্রদল নেতা, তৌহিদুল ইসলাম বাবু। ২০১৮ সালে রংপুর-৫ থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী, ড্যাব-এর সিনিয়র সদস্য, ডা. মমতাজ হোসেন।
বিএনপি নেতারা জানান, আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা সকলেই তার হয়ে কাজ করবো। আমরা চাই মিঠাপুকুর বাসির উন্নয়ন। জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আমরা মিঠাপুকুরের মানুষ ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, রংপুর জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে।
এছাড়া এবি পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য, রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক, আব্দুল বাসেদ মারজান।
এছাড়াও বিভিন্ন ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নামও শোনা যাচ্ছে। তবে তারা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী মাঠের কার্যক্রম ও জোট গঠনের ওপর।
মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে সামাজিক, সাংগঠনিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। দলের বার্তা, ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় যাচ্ছেন। ফলে রংপুর-৫ আসনে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এমন প্রার্থী চান যিনি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা খাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। তরুণ ভোটাররা পরিবর্তনের আশা করলেও, প্রবীণ ভোটারদের বড় অংশ এখনো দলীয় প্রতীকের ওপর নির্ভরশীল।