বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫)বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, “আমি এমন এক সময় দায়িত্ব গ্রহণ করি, যখন দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছিল। দায়িত্ব নেয়ার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি বীর শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সকল শিক্ষার্থীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।
উপাচার্যের দায়িত্বকালে এক বছরের অর্জন তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনে,দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ক্লাস-পরীক্ষা পুনরায় চালু হয়েছে।ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ ও নিরাপত্তা জোরদার।র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি।আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও মেডিকেল বোর্ড গঠন।প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও মেরিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান।গবেষণা কার্যক্রমে অগ্রগতি; ২০২৫ সালে বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেরোবি ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন।শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে তোরণ, স্মৃতিস্তম্ভ, কর্ণার ও বইমেলা আয়োজন।
আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন ও নতুন কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন।প্রশাসনিক সংস্কারে ফাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম, ডিজিটাল হাজিরা ও আর্থিক নীতিমালা প্রণয়ন।১২ বছর পর ৩০০ কর্মচারীর আপগ্রেডেশন/পদোন্নতি।মেধাবৃত্তি, কম্পিউটার বেসিক কোর্স ও ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ কোর্স চালু।
শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বাস সার্ভিস চালু, চিকিৎসা ও পরামর্শসেবা বৃদ্ধি।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন,দুটি একাডেমিক ভবনের সম্প্রসারণ, উপ-উপাচার্য ও অতিথি ভবন নির্মাণ, মসজিদ ও ক্যাফেটেরিয়ার সম্প্রসারণ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির নির্মাণ কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। বন্ধ থাকা ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ১০ তলা ছাত্রী হল প্রকল্প সচল করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে উপাচার্য জানান, নতুন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট চালু, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি বৃদ্ধি, র্যাঙ্কিংয়ে আরও অগ্রগতি, শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত আবাসিক সুবিধা নিশ্চিতকরণসহ বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন আরও বলেন, “চ্যালেঞ্জ অনেক, তবে সম্ভাবনাও সীমাহীন। সবার সহযোগিতা পেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে।”
সংবাদ সম্মেলন শেষে নারী শিক্ষার্থীদের কমনরুম উদ্বোধন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।