উজানের ঢলে বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা নদীর পানি। এতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে। গতকাল বুধবার প্রায় ৮০০ মিটার দীর্ঘ এই বাঁধের অন্তত ৭০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে হুমকিতে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু এবং রংপুর-লালমনিরহাট সড়ক।
স্থানীয়রা জানান, আগের দুই বারের বন্যায় বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেনি। ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় নতুন করে সেতু রক্ষা বেড়ি বাঁধে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে তিস্তা দ্বিতীয় সেতু। বর্তমান পরিস্থিতিতে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধের ব্লকের নিচ থেকে তীব্র স্রোতে মাটি সরে গিয়ে বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে।

উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, গত দুই বারের বন্যায় বাঁধের ক্ষতি হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো সংস্কার কাজ করেনি। এবারের বর্ষায় পানি বাড়তেই একের পর এক সিসি ব্লক তলিয়ে যাচ্ছে। নিচে গভীর গর্ত তৈরি হয়ে ভাঙন আরও ভয়াবহ হচ্ছে।
মহিপুরের কৃষক আজিজুল হক বলেন, এই বাঁধ দ্রুত ঠিক করা দরকার। না হলে সেতু ভেঙে যেতে পারে। সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতা হবে, জমি বালুচরে ঢেকে যাবে, চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে।
জানতে চাইলে সেতু এলাকার বাসিন্দা বুলবুল মিয়া বলেন, ‘প্রথমে ছোট ফাটল ছিল। ৪-৫ মাস ধরে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন তিস্তার পানি বাড়ায় বাঁধের বিশাল অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।’
সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী। তিনি বলেন, উজানের ঢলে বাঁধের উল্টো দিকে চর পরায় নদীর পানি সরাসরি বাঁধে আঘাত হানছে। এতে সড়ক ও জনবসতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, মহিপুরে তিস্তা সেতুর পশ্চিম অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী ওবায়দুল রহমান বলেন, রংপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তিন মাস আগে সাইট পরিদর্শন করেছেন। তার পরের পদক্ষেপ জানার জন্য আমরা পুনরায় কথা বলব।
এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, বাঁধটি সেতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এটির রক্ষণাবেক্ষণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাতে নেই। যে কারণে তারা এটির সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
এদিকে এলজিইডি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুসা বলেন, আমরা খবর নিয়েছি সকাল থেকে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে সেতু রক্ষা বাঁধটিতে। আমাদের একটি টিম কাজ করছে। তবে পানি বেশি থাকায় কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। আশা করছি পানি কমে গেলে দ্রুত বাঁধটি মেরামত করা যাবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন হওয়া দ্বিতীয় সংযোগ তিস্তা সেতুটি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্রেশ্বর এলাকার সঙ্গে গঙ্গাচড়া লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের মহিপুরকে সড়কপথে যুক্ত করেছে। সেতুটি ৮৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৯.৬ মিটার প্রস্থের, এতে ১৬টি পিলার ও ১৫টি স্প্যান রয়েছে।