শিরোনাম
রংপুরে নিখোঁজের একদিন পর শিশু সানজিদার লাশ উদ্ধার জমি নিয়ে বিরোধে হামলায় নারীসহ গুরুতর আহত ৫ রংপুরে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে রাস্তায় আলু ফেলে চাষীদের বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ রংপুরে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু হোটেল কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে মালিক মিঠাপুকুরে মিশুক ছিনতাইকারী নারী আটক ব্র্যাক সীডের উদ্যোগে টেকসই ও নিরাপদ কৃষি কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইন্টার্ণদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবীতে রংপুরে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন রমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন

কখনো ডিবি, কখনো মানবাধিকারকর্মী— অবশেষে শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার প্রতারক কামাল

স্থানীয় রিপোর্ট / ১৬৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫

মানবাধিকারকর্মী, কখনো ইমিগ্রেশন অফিসার, আবার কখনো ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা। নানান ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষের আস্থা অর্জন করে প্রতারণা করাই ছিল যার পেশা। শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে থাকা সেই ‘প্রতারক’ কামাল হোসেন ওরফে ইমন (৩৭) ধরা পড়েছেন পুলিশের জালে।

প্রতারণার শিকার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় সোমবার (৪ আগস্ট) রাতে নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, মো. আশরাফুল ইসলাম তার বাবা, মা এবং খালাকে নিয়ে পবিত্র উমরাহ পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় অনলাইনে কামাল হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কামাল নিজেকে ইমিগ্রেশন অফিসার পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তার একটি হজ এজেন্সি রয়েছে। এরপর আশরাফুল ইসলাম উমরাহ যাওয়ার ব্যাপারে তার সঙ্গে চুক্তি করেন। তখনই শুরু হয় প্রতারণার ছক। উমরাহর জন্য ভিসা, টিকিট, হোটেল বুকিংসহ অন্যান্য খরচ বাবদ অগ্রিম ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন। তারপর থেকে কামালের ফোন বন্ধ। ঠিকানা ভুয়া। এক পর্যায়ে বুঝতে পারেন সবটাই ছিল সাজানো ফাঁদ, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

আরও জানা গেছে, ঘটনার পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি পীরগঞ্জ থানায় আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় প্রতারণার মূল হোতা কামাল হোসেন। পরে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল নাটোরের নলডাঙ্গা থানার ঠাকুর লক্ষ্মীকুল গ্রামে অভিযান চালিয়ে কামালকে গ্রেপ্তার করে। ওই গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কামাল কেবল এককভাবে প্রতারক নন, বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় সদস্য। উমরাহর মতো ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়কে পুঁজি করে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। কখনো মানবাধিকার, কখনো ইমিগ্রেশন, আবার কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে মানুষের বিশ্বাস আদায় করাই ছিল তার প্রধান কৌশল।

পীরগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, আসামি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিচয় অনেক মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন। তার সঙ্গে জড়িত এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ