জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, বাংলাদেশ এখন মবের দেশ হয়ে গেছে। মব তৈরী করে আইনকে রোধ করা হচ্ছে। হাইকোর্টের বিচারপতিকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে, মব তৈরী করে নির্বাচন কমিশনের কাছে যা বলবেন তাই হচ্ছে। গেজেট হওয়ার পরও এনসিপির চাপে নির্বাচন কমিশন শাপলা কলি প্রতীক দিতে বাধ্য হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন মেরুদন্ডহীন। তাই এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়া খুবই কষ্টসাধ্য।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়ে সংবিধান সংরক্ষণ ও গণতন্ত্র রক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, জাতীয় পার্টি স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি। স্বাধীনতা, লাল-সবুজের পতাকা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে জাতীয় পার্টি লালন করে। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিরা এখন দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সেদিন বেশি দুরে নয়, দেশে স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষের শক্তির আরেকটি লড়াই হবে। সেখানে জাতীয় পার্টি স্বাধীনতার পক্ষে থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা এমন সময় গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালন করছি যে সময় সারাদেশ অস্থিতিশীল। অ্যাটর্নী জেনারেল সাংবিধানিক পদে থেকে বলছেন আওয়ামী লীগের মত জাতীয় পার্টির নিবন্ধন বাতিল যোগ্য। তিনি বিএনপির হয়ে নির্বাচন করতে চান। প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম রাজনৈতিক কথা বলছেন। প্রধান উপদেষ্টা তো অনেক আগেই বিতর্কিত হয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন ছাত্ররা আমার নিয়োগকর্তা। তারা দল করেছে ড. ইউনুসের প্ররোচনায়। সেই সরকার প্রধানের নেতৃত্বে কিভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব। সব দলের উপর তার পক্ষে ন্যায় বিচার করা সম্ভব নয়। এজন্য নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা তৈরী হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত জান্নাতের টিকেট বিক্রি শুরু করে দিয়েছে। রোজা-পূজা একখানে করেছে। কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক এমন কথা বলছে। জামায়াত নেতা শাহজাহান বলছেন সূর্য তার জন্য স্থির থাকে। তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মুসল্লীদের বুকে কুঠার আঘাত করা হয়েছে। সেই সাথে এমন ঔদ্ধর্তপূর্ণ বক্তব্যের জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরী হচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি চায় নিরপেক্ষ নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। প্রতিটি দল তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করবে, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। ততদিন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি না তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত না। আমাদের দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক। কোন দল যেন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে এমন কয়েকটি দাবী আমরা সরকারের কাছে দিয়েছি।
দিবসের তাৎপর্য নিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য এত যুদ্ধ। আমাদের শিক্ষা নিতে হবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছে। মাত্র দু’জন ডাঃ মিলন ও নুর হোসেন মারা যাওয়ায় তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আমলে শত শত মানুষকে রক্ত দিতে হয়েছে। এখনও দিতে হচ্ছে। ইউনুস সাহেবের হাত রক্তে রঞ্জিত। তিনি নিস্কলুষ মানুষ নন। এই ১৫ মাসে কত মানুষ মারা গিয়েছে। পাখির মত গোপালগঞ্জের নিরীহ মানুষকে মারা হয়েছে। এই কথা বলতে গেলে রাষ্ট্রের বিপক্ষে চলে যায়। বাক শক্তি রুদ্ধ করে, গলা টিপে ধরলে তো গণতন্ত্র থাকলো না। ভালো কাজের বাহাবা পাবেন, খারাপ কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করা হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আজমল হোসেন লেবুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় নেতা হাসানুজ্জামান নাজিম, আনিসুল ইসলাম আনিসসহ অন্যরা।